গুরু নানক জয়ন্তি বা গুরু পূর্ণিমা শিখ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা গুরু নানকদেব জীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পালিত হয়। এটি শিখ সম্প্রদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব, যা গভীর শ্রদ্ধা ও আনুষ্ঠানিকতায় পালিত হয়। গুরু নানকের জীবন ও শিক্ষাগুলি কেবল শিখ ধর্মের জন্য নয়, মানবতার জন্যই একটি মূল্যবান পথনির্দেশ। চলুন এই বিশেষ দিনটির তারিখ, গুরুত্ব, পালনের রীতি এবং গুরু নানকদেব জীর শিক্ষাগুলি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানি।
গুরু নানক জয়ন্তী ২০২৪: তারিখ
২০২৪ সালে, গুরু নানক জয়ন্তী পালিত হবে আজ ১৫ই নভেম্বর তারিখে। এই দিনটি গুরু নানকের ৫৫৭ তম জন্মবার্ষিকী। গুরু নানক জয়ন্তী সাধারণত কার্তিক পূর্ণিমার দিন উদযাপিত হয়, যা চন্দ্র ক্যালেন্ডার অনুযায়ী হিসাব করা হয় এবং ইংরেজি ক্যালেন্ডারে অক্টোবর বা নভেম্বর মাসে পড়ে।
গুরু নানক জয়ন্তির গুরুত্ব
গুরু নানকদেব জী শিখ ধর্মের প্রথম গুরু ছিলেন এবং শিখ ধর্মের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে ঈশ্বর এক বা সবার জন্য। তাঁর শিক্ষা অনুযায়ী, প্রেম, সেবা, সাম্য এবং ধর্মনিরপেক্ষতার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ঐক্য এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। গুরু নানকের জীবন এবং তাঁর উপদেশ গুলি কেবল শিখ সম্প্রদায় নয়, সমস্ত মানুষের জন্য মূল্যবান। গুরু নানক জয়ন্তী তাঁর শিক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং তাঁর জীবন থেকে অনুপ্রেরণার নেবার একটি বিশেষ দিন।
গুরু নানক জয়ন্তীর রীতি উদযাপন
গুরু নানক জয়ন্তীর উদযাপন বেশ আড়ম্বরপূর্ণ এবং ভাবগম্ভীর হয়। কিছু বিশেষ রীতি এবং অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একটি পালন করা হয়:
১. নগর কীর্তন: গুরু নানক জয়ন্তীর দু’দিন আগে থেকে ‘নগর কীর্তন’ নামক একটি শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। এতে গুরুদ্বারের প্রধান গ্রন্থ ‘শ্রী গুরু গ্রন্থ সাহিব’ কে সজ্জিত রথে রেখে শোভাযাত্রা বের করা হয়। ধর্মীয় গান এবং শিক তরোয়াল-কলা প্রদর্শনের মাধ্যমে এই শোভাযাত্রা সম্পন্ন হয়।
২. আখন্ড পাঠ: গুরু নানক জয়ন্তীর দু’দিন আগে থেকে ৪৮ ঘন্টার ‘অখন্ড পাঠ’ শুরু হয় যেখানে শিখদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ “গুরু গ্রন্থ সাহিব” নিরবিচ্ছিন্নভাবে পড়া হয়।
৩. প্রভাত ফেরি: ভোরবেলা “প্রভাত ফেরি” নামক একটি ধর্মীয় মিছিল হয়, যেখানে গুরু নানকের গুনগান গাওয়া হয়। সাধারণত স্থানীয় গুরু দার থেকে প্রভাত ফেরি শুরু হয় এবং চারপাশে এলাকাগুলি পরিক্রমা করে।
৪. লঙ্গর (মহাপ্রসাদ): গুরু নানক জয়ন্তীর সময় গুরুদার গুলিতে “লঙ্গর” আয়োজন করা হয়, যেখানে মানুষ জাত-ধর্ম নির্বিশেষে একসাথে বসে খাবার গ্রহণ করেন এটি শিখ ধর্মের সাম্যের বার্তা বহন।
গুরুর নানকদেব জীর শিক্ষাগুলি
গুরু নানক জীর জীবন এবং তাঁর শিক্ষাগুলি সমস্ত মানুষের জন্য একটি মূল্যবান দিকনির্দেশ। তাঁর প্রধান শিক্ষাগুলি ছিল:
১. ঈশ্বর এক এবং সর্বত্র বিরাজমান: গুরু নানক বিশ্বাস করতেন যে স্রষ্টা এক এবং সমস্ত জীবের মধ্যে উপস্থিত। আমরা যদি তাঁর পদ অনুসরণ করি, তবে সমগ্র মানবতার মধ্যে ঈশ্বরকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব।
২. কিরত করো (সৎ পরিশ্রম): গুরু নানকদেব পরিশ্রম করে জীবনযাপনের কথা বলেছেন। তাঁর মতে, সৎ উপায়ে উপার্জন ও পরিশ্রমের মধ্যে মানুষের মর্যাদা নিহিত।
৩. নাম জপো (স্রষ্টার নাম স্মরণ): প্রতিদিন স্রষ্টার নাম স্মরণ করা এবং ধ্যান করার মাধ্যমে আত্মিক উন্নতি করা সম্ভব বলে তিনি মনে করতেন।
৪. বান্দ ছাকো (অপরের সঙ্গে ভাগ করে খাও): সহৃদয়তা, করুণা ও দানের মাধ্যমে জীবনের প্রকৃত আনন্দ পাওয়া সম্ভব।
৫. লিঙ্গ, জাত-পাতের বিভাজনের ওপর জোর: গুরু নানক সাম্যের প্রচারক ছিলেন। তাঁর মতে, লিঙ্গ বা জাত-পাতের কারনে কোন মানুষ অন্যের চেয়ে উচ্চ নয়। সব মানুষই সমান, এবং মানবজাতির কল্যাণে কাজ করা উচিত।
উপসংহার
গুরু নানক জয়ন্তী কেবল উৎসব নয়, এটি গুরু নানকের মহান শিক্ষাগুলিকে স্মরণ করার এবং মানবতার জন্য মঙ্গল কামনার একটি বিশেষ দিন। তাঁর জীবন ও শিক্ষাগুলি আমাদের জীবনে সদ্ভাবনা ও উন্নতির জন্য উদ্দীপ্ত করে।
আপনাদের জন্য আরো
1.BSNL ডাইরেক্ট-টু-ডিভাইস স্যাটেলাইট কানেক্টিভিটি: নতুন যুগের সূচনা
2.JioStar is coming soon: Here’s what you need to know
3.Reliance Jio ট্রু ৫জি নেটওয়ার্ক: ব্যাটারি লাইফ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর দাবি
4.Afghanistan’s Rahmanullah Gurbaz Surpasses Sachin Tendulkar, Virat Kohli, Babar Azam to become